এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
সরকার ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের ওপর শর্ত জুড়িযে দেয়া হয়েছে! আর ওই শর্ত মেনে প্রকৃত কোনো সাংবাদিক কি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবেন? অবশ্য আগ্রহী হবেন এমন সাংবাদিক ও হয়তো পাওয়া যাবে। যারা আগ্রহী হবেন তারা সত্যিকারার্থে সাংবাদিক কি না তাও ভাবনার বিষয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এমন ও দেখা গেছে- প্রকৃত সাংবাদিকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড পাওয়ার আশায় যথাযথ নিয়মানুসারে স্ব স্ব এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক বরাবরে চাহিবা শর্তে সব ধরনের কাগজ পত্র সহ লিখিত আবেদন করে ও কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছিলো। প্রকৃত সাংবাদিকদের কার্ড না দিয়ে কার্ড দেয়া হয়েছিলো মুখ দেখে দেখে আওয়ামী ঘরানার নামে মাত্র সাংবাদিকদের। তার মধ্যে বেশির ভাগ ছিলো আওয়ামী যুব ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী-ক্যাডাররা! গলা-বুকে সাংবাদিক হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড ঝুলিয়ে মাইক্রো ভর্তি হয়ে নির্বাচনী কেন্দ্র সহ সর্বোত্র মহড়া দিয়েছিলো আওয়ামী যুব ও ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী-ক্যাড়াররা! আর বেশির ভাগ বিএনপি সমর্থিত বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের কে কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে স্ব স্ব এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কর্মকর্তার যোগসাজশে জেলা প্রশাসক এবং তার অধিনস্ত আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তারা। এর জ্বলন্ত প্রমাণ বিএনপির একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকা।
অন্যান্য সাংবাদিকদের মতো করে দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকার উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় দায়িত্ব রত: নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক এম, এ কাশেম যথাযথ নিয়মানুযায়ী কার্ড পাওয়ার আশায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, ছবি ও ‘দিনকাল’ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত আইডি কার্ড এর কপি সহ স্বহস্তে লিখিত আবেদন পত্র জমা দিলে ও বিভিন্ন তালবাহানার মাধ্যমে ঘুরাঘুরি করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে। ওই রকম শুধু একজন-ই নয় দৈনিক দিনকাল পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল সহ আরো অনেক জনকে বঞ্চিত করা হয়েছিলো। আর এখন নতুন খোড়া যুক্তি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন অফিস কর্তৃক প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রেস্টিজ ইস্যু সমেতো নির্দেশনা জারি করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের ওপর কুঠারাঘাত করার সামিল এ পরিনত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কার স্বার্থে? বলাবাহুল্য যে,
সত্যিকারার্থে সাংবাদিক নামধারী ধান্দাবাজ-দালাল ছাড়া প্রকৃত কোনো পেশাদারী সাংবাদিক তা মেনে নিতে পারেন না। যারা সাংবাদিকতার কার্ড গলায় ঝুলিয়ে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করার মানসিকতা অন্তরে লালন করে কেবল তারা-ই ওই সব খোঁড়া শর্ত মেনে নির্বাচনী কেন্দ্রে যাবে। সাংবাদিকতা পেশার মান-সম্মান বজায় রাখার নিমিত্তে কোনো আসল সাংবাদিক ওই সব খোঁড়া শর্ত মেনে নির্বাচনী কেন্দ্রে যাওয়ার মানসিকতা রাখবে না।
জাতীর বিবেক খ্যাত সাংবাদিকদের জন্য এমন শর্ত মাখা খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন করা সাংবাদিকতা পেশার ওপর কুঠারাঘাত করার সামিল।
আর সেই কারণে সকল সাংবাদিক কে এর প্রতিবাদ করা ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। শুধু মাত্র সময়ের ব্যাপার যে, সেটা আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া। নয় তো কোন্ ধরণের বিষ্ফোরনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয় তা বলা ও যাচ্ছে না।
এ প্রতিবেদক তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা বয়সের ৩০ বছরে ও অধিক সময়ে ওই রকম ফেল মারতে হয়নি। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকারের পাতানো গত নির্বাচনে বিএনপি’র একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত আইডি কার্ড থাকার পর নিয়মনীতি কে শ্রদ্ধা প্রদর্শন পূর্বক যথাযথ নিয়ম পালন করে নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করার যথা নিয়মে তাদের প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক সব কিছু মেনে ও কিন্তু পাওয়ার আশায় আবেদন করার পর তারা কার্ড দেয়নি। অথচ, কার্ড দেয়া হয়েছিলো শতো শতো আওয়ামী যুব ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের! এর বাইরে নামখায়াওয়াস্তের অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকার মধ্যে আওয়ামী সমর্থিত পত্রিকার সাংবাদিকর দেয়া হয়েছিলো ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নামে মহড়া দেয়ার কার্ড!!