এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম ১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমন্বয়কের গাড়িতে হামলার অভিযোগে স্বাধীনতার পর দেশে প্রথমবারের মতো কোনো ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর সভাপতি ড. কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
অলি আহমদ বীরবিক্রম সহ ১২ জনের নামে সাতকানিয়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এতে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে ওই হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি রাতে অভিযোগটি করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক এম এ হাশেম রাজু।
অভিযোগে আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়ন এলডিপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাজালিয়া ইউনিয়ন এলডিপির সভাপতি আনিস উদ্দিন, ধর্মপুর ইউনিয়ন এলডিপির সভাপতি রিয়াদ কামাল, নাছির উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন জামাল, জয়নাল আবেদীন, শফিকুর রহমান, ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন, মোঃ রনি ও এইচ এম রেজাউল করিম।
তাদের অনেকেই চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের বাইরের।
বিশেষ করে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার লোক বলে জানা গেছে তারা।
এজাহারে বলা হয়, এম এ হাশেম রাজু বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কর্নেল অলি ও তার দলের নেতা-কর্মীরা নানা:ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব না ছাড়লে রাজুকে খুন করারও হুমকি দেয়া হয়। ৮ জানুয়ারি রাতে এম এ হাশেম রাজু কয়েকজন দলীয় কর্মী ও তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে নিয়ে বিএনপি’র সম্মানিত চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় পুরানগড় ইউনিয়নে দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। রাত ১১টার দিকে দোয়া মাহফিল শেষে মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে গন্তব্যে ফিরছিলেন তারা। গাড়িটি বাজালিয়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে ভাঙা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে রাজুর গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কর্নেল অলির নির্দেশে এলডিপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালান এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়!
তবে, অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, আমরা আগেও বলেছি রাজুর বিরুদ্ধে কথিত হামলায় এলডিপি ও জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের কেউ জড়িত নয়। অভিযোগে এমন লোকের নামও এসেছে, তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম-১৫ আসনে হলেও তারা ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকায় রমজান’র ঈদ এবং কোরবানীর ঈদের সময় ও বাড়িতে আসতে পারেন না। এতেই বুঝা যায়, রাজু মামলা বাণিজ্য করতে মামলা দায়েরে তোরজোর শুরু করেছে। রাজুর অতীত ইতিহাস তাই বলে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, এম এ হাশেম রাজু বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।