এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় বর্তমান সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো বৈধ- অবৈধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার মতো অসংখ্য সাংবাদিক নামধারীদের পাদুর্ভাব ঘটেছে। অল্প দিনের ব্যবধানে কেউ কেউ লাখোপতি বনে গেছে! যাদেরকে এলাকায় ও দেখা যায়নি কোনো সময় তারা এখন বিচরণ করে চলছে অবাধে।
অল্প কিছুদিন আগে যাদেরকে দেখা গেছে-কোনো না কোনো দোকানে চাকুরী করতে বা কোনো না কোনো কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে যেতে তারা ও এখন পুরোদমে সাংবাদিক সেজে গেছে। যারা অতিত সময়ে টাকার অভাবে চা-নাস্তা ও করতে পারতো না তারা এখন নামিদামি হোটেলের নিয়মিত ভালো খানাপিনার কাস্টমার।
যারা ধুমপানে আসক্ত তারা অতিত সময়ে কমদামি সিগারেট খেতে ও কষ্ট হতো, অথচ- এখন খাচ্ছে দামি ব্র্যান্ডের বেনসন সিগারেট অথবা গোল্ড লিফ সিগারেট। যারা অতিত সময়ে টাকার অভাবে বাড়ি থেকে বাজারে আসতে পায়ে হেঁটে আসতে হতো তারা এখন দামি মোটরসাইকেল কিনে তা হাঁকিয়ে চলে।
আবার কেউ কেউ মাইক্রো-প্রাইভেট ও ব্যবহার করে চলছে! শুধুমাত্র সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ওই গুলো করে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ তাদের হাতের নাগালে। বিশ্বস্ত একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময় থেকে সুযোগ পেয়ে তা পরবর্তীতেত ওই সরকারের পতন ঘটার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা কালীন সময়ে আরো বেড়ে যায়। আর নির্বাচনের পর থেকে হু হু করে বেড়ে গিয়ে এখন দেশের রাজধানী ও বিভাগীয় জেলা শহর ছাড়া ও সারাদেশ থেকে অগনিত দৈনিক পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা ছাড়া ও আইপি টিভি নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত মিলিয়ে হাজার হাজার অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর ছড়াছড়ি।
আর সূযোগ বুঝে ওই সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক (আইপি টিভি চ্যানেল) মিডিয়ার নামে ব্যবসায়ী ক ধান্দাবাজরা মাত্র ৫০০-১০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে যার তার হাতে আইডি কার্ড তুলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে ও। আর ওই সব যেনতেন আকারের ব্যাক্তিরা ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে আইডি কার্ড বানিয়ে নিয়ে এলাকায় এসে তা গলায় ঝুলিয়ে সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জনকে ব্লাকমেইলিং করে অগাধ টাকার মালিক বনে গেছে/যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গজে উঠা সাংবাদিক নামধারীরা আরো একটু এগিয়ে থাকার মানসে সামান্য কিছু টাকা খরচ করে মাইক্রো ফোন/বুম কিনে তাতে নামখায়াস্তের ওই সব ভূঁইফোঁড় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং আইপি টিভি চ্যানেল এর লোগো ব্যবহার করে যত্রতত্র সাক্ষাতকার নেয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
এর বাইরে আরো কিছু ধান্দাবাজ-চাঁদাবাজ রয়েছে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে নামে বেনামে আইডি এবং পেজ খুলে তাতে যার তার সম্মান হানি ঘটিয়ে লিখনির মাধ্যমে ও টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাখোপতি বনে গেছে অল্প দিনের মাথায়।
প্রতিবেদনের বিষয়টি কারো কাছে অসত্য মনে হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)অথবা সমমনা অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বরত:রা সরেজমিনে সত্যতা উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কিন্তু, প্রশ্ন জাগার-ই কথা যে, ওই সব সাংবাদিক নামধারীদের জন্য টাকা আসে কোথা থেকে? এ প্রতিবেদক তার দীর্ঘ ৩৩ বছরের সাংবাদিকতা বয়সে কোথাও ৩৩ টাকা ও তো জমাতে পারেননি! আর বিএনপি’র একমাত্র পত্রিকা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকায় একটানা ২৩ বছর নিজস্ব প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন মীরসরাই-উত্তর চট্টগ্রামে।
এবং একটি টিভি চ্যানেল এর জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব ও পালন করে যাচ্ছেন অথচ, তিনি খুব বেশি অভাবগ্রস্তাবস্থায় দিন-রজনী পার করে যাচ্ছেন!! তা ও যদি অসত্য মনে হয় তাহলে তার বিষয়ে ওপেন চ্যালেঞ্জিং খবর নেয়া যেতে পারে।
বিগত সময়ে বিএনপি’র ক্ষমতার কথা বাদ দিয়ে বলাবাহুল্য যে, অন্তত: এখনকার সময়ে ও তো তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলীয় পত্রিকা দৈনিক দিনকাল পত্রিকার প্রতিনিধি/ সাংবাদিক হিসেবে তার কাছে লাখ-কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু, ‘দিনকাল’ পত্রিকার ২৩ বছরে ২৩ টাকার মালিক ও নয় সে!!! অথচ, তার সাথে অনেকেই আজ মীরসরাইতে লাখোপতি-কোটিপতি।আর এখনো যে, সে খুব বেশি অভাবগ্রস্ত তা প্রায় সবাই জানেন।
তাহলে আগের কথা বাদ দিলে ও বর্তমান সময়তে ওই সব সাংবাদিক নামধারীরা টাকা পায় কোথায়? এবং কি ভাবে তারা লাখোপতি- কোটিপতি বনে যেতে পারে?
অস্বিকার করার যুক্তি না থাকায় বলাবাহুল্য যে, বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তার মরহুম পিতার মতো একজন সাংবাদিক বান্ধব ব্যাক্তি। কিন্তু, তাই বলে- সাংবাদিকতার আড়ালে নানাবিধ: ভাবে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজ সহ নানাবিধ: অপকর্ম করে দেশ-সমাজ এবং এলাকায় দুর্নাম এর বোঝার ভার ছড়িয়ে দিবেন তা কি হয়? নিশ্চয়ই না। আর যদি তা না হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশানুসারে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কর্তা ব্যাক্তিরা উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার দিকে সু’নজর দিয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়ে অপ সাংবাদিকদের বিতাড়নের মাধ্যমে প্রকৃত/আহলে সাংবাদিকদের সু’নাম রক্ষা কল্পে এগিয়ে আসবেন বলে মীরসরাইতে দায়িত্ব রত: দেশের নামিদামি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা মনে করেন।