অনেকেই বিভিন্ন রোগ নিয়ে রোজা রাখেন। যারা দীর্ঘমেয়াদি ও ক্রনিক রোগে আক্রান্ত বা অন্তঃসত্ত্বা- তাদের রোজায় সতর্ক থাকতে হবে। রোজায় কীভাবে ওষুধ খাবেন, কোন রোগ নিয়ে কী কী সতর্কতা মানতে হবে এবং কাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ- জেনে নিন এগুলোর বিস্তারিত। জানাচ্ছেন সেন্টার ফর ক্লিনিকাল এক্সিলে অ্যান্ড রিসার্চের ফ্যামিলি মেডিসিন চিকিৎসক ডা. মো. রাশীদ মুজাহিদ।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের রোগী
ঝুঁকিপূর্ণ বা জটিল হৃদরোগী ছাড়া অন্য হৃদরোগীদের জন্য রোজা বেশ উপকারী। নিয়ম মেনে খেলে এর সাথে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৫০ এর বেশি বয়স্ক রোগী যারা দুর্বল, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে আরও বেশি অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে তাদের রোজা না থাকাই ভালো। একই সাথে হার্ট ফেইলরের রোগীদেরও রোজা না থাকা উচিত। যে কোনও হৃদরোগী যার অবস্থা জটিল নয়, কিন্তু হঠাৎ যদি বুকে ব্যথা বা বেশি খারাপ অনুভব করেন তাহলে দ্রুত রোজা ভেঙে ওষুধ খেয়ে নিতে হবে। ইফতারে অতিরিক্ত লবণ দেওয়া খাবার, সয়া সস, টেস্টিং সল্ট দিয়ে তৈরি খাবার, মেরিনেটেড কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীরা ছোলা, ফল বা সালাদের সঙ্গে কাঁচা লবণ পরিহার করবেন। ভাজাপোড়া খাবারও খাবেন না। এতে রক্তে বেড়ে যেতে পারে কোলেস্টেরলের পরিমাণ।
ডায়াবেটিস রোগী
ডায়াবেটিসের রোগীরা অবশ্যই রোজা রাখতে পারবেন। তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিতে হবে। কারণ অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ কিছুটা কমিয়ে আনতে হয়। সকালের ওষুধ ইফতারে আর রাতের ওষুধ সেহরিতে খেতে বলা হয়, ইনসুলিনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। কিছু ইনসুলিন আছে যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে। রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যাওয়ার ভয় কম থাকে এমন ইনসুলিন ডাক্তারের পরামর্শে নেওয়া যেতে পারে। রোজায়ও প্রয়োজন মনে করলেই নিজের রক্তের শর্করা পরীক্ষা করবেন। শর্করা ৪–এর নিচে বা ১৬ দশমিক ৬–এর ওপর চলে গেলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। এছাড়া দিনের যেকোনো সময় বুক ধড়ফড়, ঘাম, অস্থিরতা, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙতে হবে। এগুলো রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ।
কিডনি রোগী
কিডনির রোগ থাকলেই যে রোজা রাখা যাবে না- তা ঠিক না। কিডনিতে সমস্যা থাকুক বা না থাকুক প্রত্যেকেরই রোজার সময় পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। তবে আকস্মিক কিডনি রোগে আক্রান্ত, রেনাল ফেইলরের শেষ স্টেজ, ডায়ালাইসিস রোগীদের রোজা না রাখাই ভালো। ডাল, ছোলা ও বেসনের তৈরি খাবার কিডনি রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এগুলো খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
গর্ভাবস্থায় করণীয়
গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস এবং শেষ তিন মাস রোজা না রাখাই উত্তম। মাঝের তিন মাসে মা যদি সুস্থ অনুভব করেন এবং তেমন কোন জটিলতা না থাকে তাহলে রোজা রাখতে পারেন। তবে ইফতার, সেহরি এবং অন্যান্য খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, খনিজ গ্রহণ, পানি পান নিশ্চিত করতে হবে।