মক্কা ও মদিনার পর আল-আকসা মসজিদকে ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিবছর ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলমান এ মসজিদে ইবাদতের জন্য আসেন। আল-আকসা মসজিদকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। তবে মুসলমান ছাড়াও এখানে ইসরায়েলের ইহুদিরাও সমাবেত হয়।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলমানদের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির প্রায় ২০০ বাসিন্দা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করেছে। এই উসকানিমূলক ঘটনার জেরে আল-আকসা চত্বরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, পবিত্র এই মসজিদ প্রাঙ্গণকে ভাগ করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমন অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। খবর দিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
জেরুজালেম প্রাদেশিক প্রশাসনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার সকাল ও বিকেলে দুই দফায় ইসরায়েলের অবৈধ বসতির মোট ১৮২ জন বাসিন্দা আল-আকসা মসজিদে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রকের আশপাশে তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। একই দিনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত একটি গেট দিয়ে আরও ৭৭৮ জন বিদেশি পর্যটক মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু নভেম্বর মাসেই ইসরায়েলের অবৈধ বসতির ৪ হাজার ২৬৬ জন বাসিন্দা এবং প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি পর্যটক আল-আকসা এলাকায় প্রবেশ করেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকা আল-আকসা মসজিদের মরক্কো গেট দিয়ে বহুবার এমন উসকানিমূলক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। জেরুজালেমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মনে করে, অবৈধ বসতির বাসিন্দাদের টহল ও তালমুদিক আচার পালনের মাধ্যমে মসজিদ এলাকায় সময় ও স্থানভিত্তিক ভাগাভাগি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।