এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
অতিত সময়ের মতো এবারকার নির্বাচনে ও কি দেশের নামিদামি পত্রিকা ও টিভি’র দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন?
দেখা গেছে- বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন গুলোতে কেবলমাত্র দল ঘেঁষা নামখাওয়াস্তের পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল গুলোর সাংবাদিকদের এবং সাংবাদিক নাম ধারন করা দলীয় ক্যাডারদের যেনতেন আকারের কোনো না কোনো পত্রিকা বা টিভি’র আইডি কার্ড বানিয়ে দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় মহড়া দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিলো। আর তাদের ভিড়ে হারিয়ে যেতে হয়েছিলো দেশের বৃহত্তম: রাজনৈতিক দলের একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক দিনকাল পত্রিকার প্রতিনিধি/সাংবাদিক সহ আওয়ামী লীগ বিরোধী অন্যান্য পত্রিকা ও টিভি’র প্রতিনিধি/ সাংবাদিকরা। এবার কিন্তু তা হওয়ার কথা নয়। তথাপি, অবস্থাদৃষ্টে সন্দেহ এবং সংশয় দেখা দিয়েছে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো দেশের প্রধান চালিকাশক্তি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দায়িত্ব রত: দেশের নামিদামি দৈনিক পত্রিকা ও টিভি’র বিভিন্ন প্রতিনিধি/সাংবাদিকদের মাঝে।
অনেকে সন্দেহ এবং সংশয় এর বিষয়টি উল্লেখ করে বলছেন-যে হারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে সাংবাদিক নামধারী ফেইজবুক পেজ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং নামখাওয়াস্তের পত্রিকা গুলোর জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড দেয়া হচ্ছে তাতে এক ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যে তা নির্ঘাত বলা চলে।
দেশের নামিদামি দৈনিক পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল এ দায়িত্ব রত: সাংবাদিকদের বে কাদায় ফেলে দেয়ার অবস্থা সৃষ্টি করে চলেছে নির্বাচন কমিশন।
দেশের একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি’র একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকা, যেই পত্রিকা (দিনকাল) টির সম্পাদক-প্রকাশক স্বয়ং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই পত্রিকার একজন প্রতিনিধি/সাংবাদিক (চট্টগ্রাম উত্তর এর মীরসরাই উপজেলায় একটানা দীর্ঘ ২৩ বছর দায়িত্ব পালন রত:) হয়ে এবং জিবিসি টিভি’র চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন রতাবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক সব কিছু সহ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড প্রদানের আবেদন করার পরে ও এখনো হাতে পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে হয়েছে! সেখানে উপরোল্লিখিত ওই সব নামখাওয়াস্তের পত্রিকা গুলোর জন্য কি ভাবে কার্ড ইস্যু করা হয়ে গেলো আগে ভাগে! এবং তা কি ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ছেড়ে দেয়া হলো তা ভাবনার বিষয় বৈকি?
আরো একটি শতোভাগ সঠিক তথ্য: আর তা হলো-যে বা যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড পেয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়ে কার্ড এর ছবি সমেতো পোষ্ট দিয়ে যাচ্ছেন তারা আবার যেনতেন আকারে জেলা বা উপজেলা ও নয় সারাদেশ ব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড বানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন! এখন প্রশ্ন জাগার- ই কথা যে, ঢাকা থেকে যে বা যারা সারাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড বানিয়ে নিতে পেরেছেন তারা একজনে কি একদিনে সারাদেশের নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন? এ ছাড়া- ওইসব পত্রিকা এবং টিভি’র কি জেলা বা উপজেলায় কোনো প্রতিনিধি/সাংবাদিক দায়িত্বে নেই?
এই বিষয়টি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড ইস্যু করার দায়িত্ববান কোনো ব্যক্তির মাথায় ধরলো না কেনো ?
এ প্রতিবেদক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যখন দৈনিক দিনকাল পত্রিকা ও জিবিসি টিভি’র প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড পাওয়ার আবেদন নিয়ে প্রবেশ করেন তখন অনেককে ও দেখা যায় নামখাওয়াস্তের পত্রিকা গুলোর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন পত্র জমা দিতে। সেখানে হাজারো আবেদন জমা পড়ছে। এখন প্রশ্ন জাগার- ই কথা যে, সবাই যদি সাংবাদিক হয়ে নির্বাচনী এলাকা পরিভ্রমণ করতে পারেন তাহলে তো আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও কোনো দরকার পড়ে না। বলতে গেলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও বিব্রতবোধ করতে বাধ্য হবে নির্বাচনী এলাকায় এতো গুলো গাড়ি ভর্তি সাংবাদিক নামধারী লোকদের অবাধ বিচরণ দেখে।
অবশ্য- বলাবাহুল্য যে, এখন পর্যন্ত দেশের নামিদামি দৈনিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল গুলোর কোনো প্রতিনিধি/সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকের হাতে এখনো ওই কার্ড এসে পৌঁছায়নি। তাহলে ওই সব নামখাওয়াস্তের পত্রিকা গুলোর সাংবাদিক নামধারীরা কি ভাবে আগে ভাগে পেয়ে গেলো তা?
তবে, ওই রকম ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে শো করতে দেখা যায়নি দেশের নামিদামি দৈনিক পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল এর কোনো সাংবাদিককে। বাট যারা তা করছেন তাদের পত্রিকা গুলো বাজারে/মার্কেটে নেই বললেই চলে। আবার এমন ও কেউ কেউ রয়েছেন যারা কেবল মাত্র ফেইজবুক পেজ পরিচালনা করেন। এবং অনেকেই অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর প্রতিনিধি!
ওই সব বিষয়ে কি নির্বাচন কমিশন অফিসে যারা দায়িত্ব পালন করছেন এবং যারা জেলা প্রশাসক এর অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন তারা কি একেবারেই বূজেন না?