গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিভৃত একটি গ্রামের নাম- মহিশবান্দী। এ গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে নদী। আর ভাঙনের কবলে পড়ে নদীবন্দিতে পড়েছে অর্ধশত পরিবার। তাদের চলাচলের নেই কোনো রাস্তা। পারাপারের জন্য আছে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো আর অন্যের কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাফেরা করতে হয় তাদের। এতে প্রাণহানিসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।
ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু-শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সের মানুষ। ওপারে পৌঁছে নেই কোনো রাস্তা। বাধ্য হয়ে কৃষকের জমির আইল দিয়ে হেঁটে উঠতে হয় মূল সড়কে।
স্থানীয়রা জানায়, মহিশবান্দী পূর্বপাড়া স্থানে কয়েক যুগ ধরে শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন। এখানকার সবগুলো পরিবার দরিদ্র সীমার নিচে জীবনযাপন করছেন। তাদের অন্যের জমির আইল (ঘাটা) দিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে প্রধান সড়কে পৌঁছাতে হয়। তৎকালীন বাড়িগুলোর তিন পাশে নদী থাকলেও উত্তর পাশে ছিল না কোনো নদী।
এরই মধ্যে বছর দুয়েক আগে অব্যাহত ভাঙনে এখন বসতভিটার চারপাশে বয়ে গেছে নদীটি। একপর্যায়ে দক্ষিণ পাশে বিশাল খালে পরিণত হয়েছে। যার কারণে নদীবন্দী হয়ে পড়েছে দ্বীপের মানুষরা। সময়ের ব্যবধানে সমাজ উন্নয়ন তথা দেশের পরিবর্তন ঘটলেও আজও উন্নয়নে পরিবর্তন হয়নি এ দ্বীপের করুণ অবস্থা। জনপ্রতিনিধিদেরও নজরে আসেনি ওই স্থানে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্ষা এলেই নদীর পানি কানায় কানায় ভরে গেলে বেড়ে যায় আরও দুর্গতি। এছাড়াও হঠাৎ কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জীবন নির্ভর করে সময়ের উপর। একটু দেরি হলেই রোগীর জীবন অসহ্য যন্ত্রণাসহ ওখানেই মৃত্যুর প্রহর গুণতে হয়। এছাড়া শিক্ষার আলো থেকে ঝড়ে পড়ছে তাদের সন্তানরা।
এমনভাবে রাস্তা-ব্রিজের অভাবে কয়েক বছর ধরে লেগে আছে মানুষের চরম ভোগান্তি। বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি নতুন সরকার ও এমপি এই স্থানে রাস্তা নির্মাণসহ খালের ওপরে ব্রিজ নির্মাণ করবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করাসহ শিক্ষিত হতে পারবে সন্তানরা।