সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নে মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক: বিএমএসএফ করিমগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ফসলি জমি বিলীন, ভাঙনের মুখে গ্রাম হারানো মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকরা, কিশোরগঞ্জ পুলিশের সাফল্য চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা চট্টগ্রাম শহরের ‘ফুসফুস’ খ্যাত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের ‘নতুন উদ্যোগের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ট্রেন থেকে পড়ে কিশোর নিহত চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসনের এমপি নুরুল আমিনকে প্রধান অতিথি বানিয়ে-সম্মাননা দিয়ে অতিতের সব কিছু বৈধ করে নিচ্ছে একটি মহল! গাজীপুরে দুই বাসের রেষারেষিতে সুপারভাইজারের মৃত্যু: মরদেহ সরালো মালিকপক্ষ! প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতার আশ্বাস তথ্য মন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গাজীপুরে দুই বাসের রেষারেষিতে সুপারভাইজারের মৃত্যু: মরদেহ সরালো মালিকপক্ষ!

ফারুক আহমদ

বাসন-কোনাবাড়ী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

তারিখ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬

গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুই বাসের রেষারেষি ও বেপরোয়া গতির বলি হয়েছেন বিলকিস পরিবহনের সুপারভাইজার মো. শাহীন মিয়া। গত ১৫ এপ্রিল ভোরে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন এবং মালিকপক্ষের রহস্যজনক আচরণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চন্দনা চৌরাস্তা বঙ্গ মার্কেটের সামনে সুলতান মিয়ার পানের দোকানের কাছে যাত্রী তোলার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল ‘সোনার বালা’ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-১৫২৭)। ঠিক সেই মুহূর্তে ‘বিলকিস পরিবহন’ (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৪৪৯১) এর একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুই বাসের ভয়াবহ চাপের মাঝখানে পড়ে বিলকিস পরিবহনের সুপারভাইজার শাহীন মিয়া ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হন। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিলকিস পরিবহনের চালক মো. মিলন মিয়া ঘাতক বাসটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মরদেহ গুমের অভিযোগ
ঘটনার পর স্থানীয়রা জড়ো হলেও অভিযোগ উঠেছে যে, প্রশাসনকে কোনো প্রকার অবগত না করেই বিলকিস পরিবহনের মালিক মো. স্বপন মিয়া এবং সোনার বালা পরিবহনের মালিক মো. রুবেল পাঠান বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে নিহতের মরদেহ জামালপুরে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানেই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ময়নাতদন্ত ও আইনি সুরতহাল ছাড়াই কেন মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হলো?
মালিকপক্ষের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ
এ বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা বিলকিস পরিবহনের মালিক মো. স্বপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য দেখান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এসব বিষয় নিয়ে নাক গলাবেন না, এটা আমাদের শ্রমিকদের বিষয়, আমরা নিজেরাই দেখবো।” এই বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। মালিকপক্ষের এমন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ও অসহযোগিতাকে রহস্যজনক মনে করছেন স্থানীয়রা।

পরিবারের আহাজারি ও বিচার দাবি
নিহত শাহীন মিয়ার পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে তারা দিশেহারা। নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই শাহীনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘাতক চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্নমহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এমন প্রাণহানি ঘটলেও পুলিশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই মরদেহ সরালো কারা? কেন কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই বাসটি চলে যাওয়ার সুযোগ পেল? স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রভাবশালীদের চাপে কি এই তাজা প্রাণের অকাল মৃত্যুর বিচার অধরাই থেকে যাবে?
এ ঘটনায় পুরো চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় শোক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির লাগাম টানতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page