জুলাই আন্দোলন দমনে দেওয়া নির্দেশনা গোপন করতে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারটি ফোন নম্বরের প্রায় এক হাজার কল রেকর্ড মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর জোহা।
সোমবার তিনি জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)-এর সার্ভার থেকে কলরেকর্ড ও মালিকানার তথ্য মুছে ফেলতে নির্দেশ দেন সংস্থাটির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান। লোক পাঠিয়ে সার্ভার থেকে এসব তথ্য সরানো হয়। বর্তমানে ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, শুধু শেখ হাসিনার নয়, একই সময়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাবেক এক পরিকল্পনা মন্ত্রীর কল রেকর্ডও মুছে ফেলা হয়।
সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা চারটি ফোন নম্বর ব্যবহার করতেন। তবে ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই সব নম্বরের মালিকানা সম্পর্কিত তথ্যও মুছে দেওয়া হয়। এনটিএমসির নির্দেশে ওপেন সোর্স থেকে নিয়োগ পাওয়া এক ব্যক্তি তথ্য মুছে ফেলার কাজটি সম্পন্ন করেন।
তানভীর জোহা বলেন, “প্রাথমিকভাবে শনাক্ত চারটি নম্বরই শেখ হাসিনার ব্যবহৃত। এগুলোর মুছে ফেলা কলরেকর্ড ও ডিজিটাল এভিডেন্স উদ্ধারে কাজ চলছে।”
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার কিছু ফোনালাপ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মারনাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলন দমন ও হতাহতের তথ্য গোপন করতে প্রায়ই ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হতো। তবে এই সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের সঙ্গেই ফোনে যোগাযোগ করতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সেই কলরেকর্ডই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।