এম, এ কাশেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
দেশের সর্বস্থানে প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণতা ধেয়ে আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি এবং তার আগে ও পরে, সুতরাং-সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই। আগে জীবন বাঁচানোর তাগিদ, তার পর সাংবাদিকতার বাহাদুরী।বলাবাহুল্য যে, সাংবাদিকতার নাম বিকিয়ে বাহাদুরী করার চাইতে অনেক গুন বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজের জীবন বাঁচানো। কথাটি যে সব সাংবাদিক নামধারী এবং সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ধান্দাবাজিতে মশগুল থাকবে তাদের জন্য সাংবাদিক নের্তৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক সংস্থা গুলো সোচ্চার থাকার কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান সময়তে মহান পেশা সাংবাদিকতাকে কলুষিত করে তুলেছে গুটি কতেক পত্রিকার সম্পাদক/মালিক বনে যাওয়া ব্যাক্তি বিশেষরা। তারা এমন ভাবে টোপ ফেলে দেশের আনাচে কানাচে কিছু সুবিধা ভোগী ও দুই নম্বরী ধান্দাবাজদের হাতে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড দিয়ে মহান পেশা সাংবাদিকতাকে একেবারেই নোংরা আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেয়ার সামিলে পরিনত করেছে! আর ওদের কারণে প্রবীণ ও প্রকৃত সাংবাদিকরা প্রতি পদে পদে বাধা এবং নানাবিধ: হয়রানি ও ভোগান্তি সহ বিপদাপদের সন্মুখীন হতে হচ্ছে প্রায়:শই। এমনোতর: অবস্থার মধ্যে চলমান সময়ে দ্রুত ঘনিয়ে আসছে বহুল আখাংকিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং মানুষের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণতআর রয়েছে এবং থাকতে হচ্ছে/ হবে ও সাংবাদিকরা।
নির্বাচন কালীন সময়, বিশেষ করে নির্বাচনের দিন বা তার আগে ও পরে সাংবাদিকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকতে হতে পারে। সেই কারণে প্রকৃত সাংবাদিক যারা তারা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সর্বদা সযাগ থেকে নিজেরা নিজেদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকতে হবে।
সুন্দর-যুক্তিসঙ্গত এবং পরামর্শিক কথা যদি মনে করা হয় তাহলে এখন সর্বাগ্রে সাংবাদিক সংস্থা গুলো প্রস্তুত থাকতে হবে। যাতে করে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মুলক বিষয়কে পাশ কাটিয়ে সাংবাদিকতার নামে ব্যাক্তি বিশেষের দালালী এবং ধান্দাবাজি করতে গিয়ে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হলে যেনো আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
এমনিতে সারাদেশ ব্যাপী ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়তে বাড়তে একেবারেই চরম সীমা অতিক্রম করে চলেছে। আর সামান্য কিছু টাকা দিয়ে যেনতেন আকারের কোনো না কোনো পত্রিকার আইডি কার্ড বানিয়ে নিয়ে তিনি গলায় ঝুলিয়ে যত্রতত্র চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজি করে আহল সাংবাদিকদের কোনঠাসা করে রাখা হচ্ছে। ওই সব সাংবাদিক নামধারীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণে সব সাংবাদিকদের লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তার ওপর এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন অফিসে দায়িত্ব রত: কিছু ব্যাক্তি বিশেষ এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কাজে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ব্যাক্তিদের সাথে বিশেষ কোনো এক ধরনের সখ্যতার সুবাদে ওই সব নামখাওয়াস্তের পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল এর কার্ড শো করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড ও বানিয়ে নেয়া হয়েছে/হচ্ছে এবং হবে ও। আর তাতে করে আসল সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই হয়তো নির্বাচনী কর্মকার্য পরিচালনা/সম্পাদন করা থেকে বিরত ও থাকতে বাধ্য হবেন। এখনো সময় কিন্তু পেরীয়ে যায়নি।
সুতরাং, সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একদিকে নির্বাচন কমিশন-জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং দেশের নামিদামি পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল এর মালিক-কর্তৃপক্ষের দুর্নাম এর পাশাপাশি তাদের জন্য ও জবাবদিহিতার ‘খড়গ’ চলে আসতে পারে দ্রুত!