ফারুক আহমদ ,
বাসন কোনাবাড়ি প্রতিনিধি, গাজীপুর।
ফসলি জমিকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত খাল পুনঃখনন কাজ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মৌচাক ইউনিয়নের রতনপুর রেলব্রীজ এলাকায় এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে এই কর্মযজ্ঞের শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ মজিবুর রহমান। রতনপুর থেকে শুরু হয়ে সুরিচালা ও মকশ বিল হয়ে তুরাগ নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি খননের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতা দূর ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মজিবুর রহমান বলেন:
“আমরা কেবল মাটি কাটছি না, আমরা আগামীর সমৃদ্ধির পথ তৈরি করছি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া সেই খাল খনন বিপ্লবের ধারাকে আমরা আবার পুনর্জীবিত করছি। এই খালের পানিপ্রবাহ সচল হলে সুরিচালা ও মকশ বিলের হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে, আর আমাদের অতি দরিদ্র ভাই-বোনেরা পাবেন নিশ্চিত কর্মসংস্থান।”
উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য
বক্তারা উল্লেখ করেন, গাজীপুর একটি শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে খাল-বিল ভরাট করার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল। এই খনন কাজ শুধু পানির গতিপথ ঠিক করবে না, বরং পরিকল্পিত ও আধুনিক গাজীপুর বিনির্মাণে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) লক্ষ্য যে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা, এই প্রকল্প তারই একটি সফল প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:
জনাব মোঃ সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ), গাজীপুর।
জনাব এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালিয়াকৈর।
জনাব মোঃ আওলাদ হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, গাজীপুর।
নতুন প্রাণের স্পন্দন
স্থানীয়রা জানান, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে এই অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। এখন ইজিপিপি প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে, অন্যদিকে মৌসুমি কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রাণের স্পন্দন ফিরে এসেছে। সংসদ সদস্যের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
গাজীপুর-১ আসনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দেখছেন, এই খাল খনন প্রকল্প সেই স্বপ্নেরই প্রথম সোপান।