শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ইরানি মিসাইল রেঞ্জে, ট্রাম্পের না ভেবে উপায় নাই!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সরাসরি বার্তায় জানান, আমেরিকা যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি হবে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু। আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করা সম্ভব না হলেও আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো তেহরানের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশ্যে একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই পাল্টাপাল্টি হুমকি শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সামরিক তৎপরতাকে শান্তি প্রতিষ্ঠার শক্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও তেহরান একে উস্কানি হিসেবে দেখছে। আরাঘচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের ভয় পায় না এবং তাদের সামরিক বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবেন না বরং ওইসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করবেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় দুই হাজার মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে ইরানের। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলেও এই মিসাইল শক্তিই এখন ইরানের প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের হাতে থাকা খুররমশাহর এবং সেজজিলের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে শুরু করে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তর এবং কুয়েত, ইরাক ও সিরিয়ার অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা এখন ইরানের সরাসরি মিসাইল ছায়ার নিচে রয়েছে। এমনকি তুরস্কের ইনজিলিক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটিও এই ঝুঁকির বাইরে নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই মিসাইল ভাণ্ডার অনেকটা ‘সুইস আর্মি নাইফ’-এর মতো কাজ করছে, যা তারা একই সাথে প্রতিরক্ষা এবং শত্রু দমনে ব্যবহার করতে পারে। গত বছর ইসরায়েলে প্রায় ৫০০ মিসাইল হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরান তাদের সক্ষমতার জানান দিয়েছিল। যদিও সেই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি ছিল না, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখন ইরানের এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page