রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগজ্ঞে বাস-লরি-কাভার্ড ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১২ ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে মীরসরাইয়ের পথসভার বিভিন্ন দিক্ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন ১১ দলীয় ঐক্য। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে চট্টগ্রামের দীপ জেলা সন্দ্বীপে বাসর রাতেই মারা গেলেন বর, বিয়ে বাড়ির আনন্দ-উচ্ছাস বিষাদে পরিনত বিএনপি’র ৪৮ তম: প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শহীদ জিয়া’র মাজারে ঢাকাস্থ মীরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম’র ফুলেল শ্রদ্ধ্যা ছাগলনাইয়ার হাই রাস্তা ইকবাল সিএনজি পাম্পের পাশে আগামীর নতুন স্বপ্নের স্বপ্ন যাত্রা ‘স্বপ্ন রেস্টুরেন্ট’ এর শুভ উদ্বোধন। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী জামায়াতের নের্তৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সু’শৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণতা কামনা সবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের করেরহাট এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় এক সাংবাদিক ও এক যুবদল নেতা আহত

মরার পরও ভরসা নেই’, তাই নিজের কবর বানিয়ে রাখলেন মা

মোঃ রানা ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

ঘরের পাশেই একটি কবর। প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কবরটির পাশ দিয়েই হাঁটেন আয়েশা বেগম। কখনো দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। যেন নিজের শেষ ঠিকানাটিই আগেভাগে দেখে নেন। মৃত্যুর পর সন্তানরা দাফনের দায়িত্ব নেবে সেই বিশ্বাস হারিয়েই জীবিত অবস্থায় নিজের কবর নিজেই প্রস্তুত করে রেখেছেন ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা।
ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামের। আয়েশা বেগম ওই গ্রামের মৃত আয়নাল হকের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, স্বামীর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন আয়েশা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, তিন ছেলে তার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর আর খোঁজখবর নেন না। কিছুদিন ছেলেদের বাড়িতে থাকলেও বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে। পরে স্বামীর দেওয়া জমির ওপর একটি জরাজীর্ণ ঘর তুলে একাই বসবাস শুরু করেন তিনি। সেই ঘরের পাশেই নিজের হাতে একটি কবর তৈরি করে রেখেছেন আয়েশা বেগম। তার আশঙ্কা, মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো দাফনের দায়িত্বও নেবে না। তাই জীবদ্দশাতেই শেষ আশ্রয়টুকু প্রস্তুত করে রেখেছেন।
বৃদ্ধার ঘরটিও মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। নেই বিদ্যুৎ-সংযোগ। রাত কাটে অন্ধকারে। নিয়মিত খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয় তাকে। প্রতিবেশীদের দেওয়া সহায়তাই এখন তার বেঁচে থাকার প্রধান ভরসা।

কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করেছি। এখন কেউ একবারও এসে জিজ্ঞেস করে না, ‘মা, তুমি কেমন আছো?’ ঘরে পানি পড়ে, অন্ধকারে থাকি। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। আমার মৃত্যুর পর কী হবে, সেই চিন্তা থেকেই নিজের কবর বানিয়ে রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর হলো আমি একা থাকি। বর্ষার সময় এক হাটু পানি লাগে বাড়ির আঙ্গিনায়। মাছ-গোস্ত খাইনি অনেক দিন। ছেলেরা খোঁজও নেয় না। এখন প্রতিদিন মৃত্যুর দিন গণনা করছি। বিদায় নিতে পারলেই বাঁচি। এভাবে আর কত দিন বেচে থাকা যায় বলেন। যে সন্তানদের খেয়ে না খেয়ে বড় করলাম তারাই আজ আমাকে তাদের বোঝা মনে করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এলাকাবাসীদের বলা আছে, আমি মারা গেলে তারা যেন আমার দাফনটা করে দেয়। আমার সন্তানের উপর কোনো ভরসা নেই আমার। বেঁচে থাকতেই খোঁজ নেয় না, আর মারা গেলে তো তারা বেঁচে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে একাই বসবাস করছেন আয়েশা বেগম। এলাকার লোকজনই মাঝে মধ্যে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন। মৃত্যুর পর তাকে যেন এই কবরেই দাফন করা হয় এ কথাও তিনি স্থানীয়দের বলে রেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী বলেন, চাচি প্রায়ই বলেন, মারা গেলে তাকে যেন এই কবরেই দাফন করা হয়। তার ছেলেরা সবাই ব্যবসা করেন, আর্থিক অবস্থাও ভালো। কিন্তু কেউ মায়ের খোঁজ নেন না। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও উল্টো আমাদের সঙ্গেই খারাপ আচরণ করা হয়।
এ বিষয়ে আয়েশা বেগমের দুই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page