লিয়াকত হোসেন রাজশাহী
রবিবার (০২ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.) বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে
২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ। ছয় মাসব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ
শেষে আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যেখানে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হল ২৭তম বিসিএস
(পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ০৬ (ছয়) মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ।
২০২৬ সালের ০১ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী
আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন ।
আজকের এই সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি
বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে
দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও আজকের এই সমাপনী কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু,
এমপি, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং প্রিন্সিপাল,
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ
সহকারী পুলিশ সুপার ড. মোঃ নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট
প্রবেশনার এবং বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড- এই দুই ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন
করেন। এছাড়াও বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান
বি
মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ এ,বি,
এম মামুন।
সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মহান
মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনা কাটিয়ে
আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানান। একটি নতুন বাস্তবতায়
প্রবেশ করায় চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনমনে স্বস্তি
ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক,
প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে। ডিজিটাল অপরাধ
দমন ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে
নিজেদের গড়ে তোলার জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন। পরিশেষে দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দিয়ে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন
পুলিশ কর্মকর্তাগণ অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে উক্ত সহকারী পুলিশ সুপারগণ বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের
বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।