
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পতিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের উপরে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিলো। এই অবৈধ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো। তারা অনেক আন্দোলণ সংগ্রাম করেছেছিলো। তারা সমস্ত কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেছিলো। তারা জেলও খেটেছিলো রোববার বিকেলে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের আয়োজনে আলোচনা ও র্যালি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক নারী নেত্রী যেমন মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মরহুমা এডভোকেট রওশন আরা পপিসহ বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী ইহলোক ত্যাগ করে চলে গেছেন। তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, আজকের দিন সব থেকে বেশী খারাপ লাগার দিন। কারণ এই দিনে বিএনপি চেয়াপার্সন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হতো। কিন্তু তিনি আজ আমাদের মাঝে আর নেই। তিনি পতিত সরকারের আমলে সম্পুর্ন মিথ্যা মামলায় সাড়ে ছয় বছর জেল খেটেছিলেন। সেখানে তিনি অসুস্থ হন। এরপর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর দুনিয়া মায়া ত্যাগ করে তিনি আল্লাহর ডাকে পরপারে চলে যান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে আসার মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়ার নারী জাগোরনের ভূমিকা কোন অংশে কম নয়। তিনি ছিলেন বাংলার রাখালরাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনি। জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সে সময়ে তিনি স্বৈারচার এরশাদকেত আন্দোলনের মাধ্যেমে বিতারিত করেছিলেন। এরপর তিনি নির্বাচন কওে বিজয়ী হয়ে এদেশেল প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন । তিনি আরো বলেন বেগম জিয়া নারীদের শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন। সেইসাথে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য চাকরী কোটা দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গ্রহন করেছিলেন। সংসদীয় পদ্ধতি চালু করেছিলেন। বেগম জিয়া সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। এই মাদার অব ডেমোক্রেসি ও গণতন্ত্রের মাকে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ জুলাই-আগস্টে শহীদদের তিনি স্বরণ করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন। সেইসাথে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর তিনি সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মিলে বেলুন, ফেস্টুন ও বেলুন উড়ান। পরে বর্নাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
এরপর আগে মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্থান হতে মিছিল নিয়ে বাটার মোড়ে এসে উপস্থিত হন। সেখান থেকেই র্যালি বের করেন নেতৃবৃন্দ। র্যালি নিয়ে মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলুপট্টি মোড়ে গিয়ে শেষ করেন।
রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানবক্তা হিসেবে উপুস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, রাসিক সাবেক মেয়র এবং বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, ওলিউল হক রানা, এডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম এবং সহ-সভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদেও বকুল, বর্তমান সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন বিপ্লব ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি।
এছাড়াও মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা বেগম টুকটুকি ও সদস্য গুলশান আরা মমতা, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহনাজ পারভিন লাকি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমাউল হুসনা ও মনোয়ারা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক জরিনা খাতুন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জেরিন তুলি, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নাজরিন আক্তার বিথি ও সহ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক লাভলী সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।