ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে জেলগেটে তিনদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত শুনানিতে রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে সকালে তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর গত ২১ জানুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদনের ওপর শুনানি হয়। দুদকের পক্ষে আইনজীবীরা তাকে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। প্রত্যেক মামলায় মতিউর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
তিন মামলার মধ্যে একটিতে আসামি করা হয়েছে মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজকে। সে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লায়লা কানিজ দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৩ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার ১০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এসব সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন মতিউর রহমান। তাই, তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২), ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হলো।
আরেক মামলায় আসামি করা হয়েছে মতিউর রহমানের মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতা এবং স্ত্রী লায়লা কানিজকে। এ মামলার এজাহারে দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ৫৩ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২), ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অপর মামলায় মতিউর রহমানের ছেলে ছাগলকাণ্ডে আলোচিত আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য-প্রমাণসহ ৪২ কোটি ২২ লাখ ৫৮ হাজার ২৭১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১৪ জানুয়ারি ভোরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৮ জানুয়ারি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।