শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে জে এম সেন হলে দুর্গা পুজা মন্ডব পরিদর্শন ও সনাতনী সম্প্রদায়ের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান* চট্টগ্রামে দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথম জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বললেন সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশী মীরসরাইয়ের আওয়ামী দলীয় বিনা ভোটের এমপি রুহেলের বিরুদ্ধে রেলের জমি দখল ও ১ কোটি ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা দুদক’র মঙ্গলবার একই দিনে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান নিরাপত্তা জোরদার চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের ওসমানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ ছাত্রদল নেতার মধ্যে নিহত ১ আহত ২ ঢাকা ৪ ও ৫ সাবেক এমপি আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদের ইন্তেকালে চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট কলেজ মাঠে নুরুল আমিন এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ঝাঁকঝমক পূর্ন উদ্বোধন চট্টগ্রামের মীরসরাইতে চাঁদাবাজি-ধান্দাবাজি সহ নানাবিধ: অপকর্মে ধরা পড়ে পিটুনি ৩ জন খেলে ও কমছে না অপ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য আর কোনো দিন চুয়েটে ফিরবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে অবরুদ্ধ থেকে ডিসি এসপি’র সহায়তায় পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন উপাচার্য কিশোরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, পুলিশ সদস্যদের কঠোর বার্তা এসপির

অকাল প্রয়াত রফিকুলের পরিবারে অন্ধকার: তিন হাফেজ সন্তানের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আকুল আবেদন

​মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

মাথার উপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার দেড় মাস পার হয়েছে। স্বামীর শোকে বুকফাটা কান্নার রোল থামেনি, এরই মধ্যে রিক্ততার নির্মম বাস্তবতায় দুই চোখের সামনে অন্ধকার দেখছেন বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসি গ্রামের রফিকুল ইসলাম আকাশের স্ত্রী। গত দেড় মাস আগে আকস্মিক স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে এই অসহায় পরিবারটি।
​তিনটি অবুঝ সন্তান—যাঁরা প্রত্যেকেই স্থানীয় হাফিজিয়া মাদ্রাসায় কুরআনের হাফেজ হওয়ার পথে পড়ালেখা করছে—তাদের মুখের দুটি ডাল-ভাতের সংস্থান করতেই এখন দিশেহারা মা। ঘরে চাল নেই, ঠিকমতো খাবার জুটে না সন্তানদের পেটে। অথচ এদের বুকভরা স্বপ্ন, তারা একদিন বড় হয়ে আলেম ও মাওলানা হবেন, আল্লাহর পবিত্র কোরআনের খেদমত করবেন। বাবার মৃত্যুর পর অর্থাভাবে সেই সুন্দর স্বপ্নগুলো এখন অঙ্কুরেই নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
​অন্নহীন সংসার, থমকে যাওয়ার পথে পড়াশোনা
​পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মরহুম রফিকুল ইসলাম আকাশ। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটির আয়ের কোনো উৎসই আর অবশিষ্ট নেই। যে বয়সে সন্তানদের খাতা-কলম আর কোরআনের কিতাব হাতে নিয়ে স্কুলে বা মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা, সে বয়সে তারা এখন দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য হা করে তাকিয়ে থাকে মায়ের মুখের দিকে। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ ও মাদ্রাসার বেতন যোগান দেওয়া তো দূরের কথা, নিত্যদিনের পেটের ভাত জোগাড় করাই এখন এই শোকার্ত মায়ের কাছে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​হৃদয়বিদারক আকুতি
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসহায় মা জানান,
​”আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার কোনো গতি নাই। ঘরে চাল নেই, ঠিকমতো সন্তানদের খাবার দিতে পারি না। তিনটে সন্তান মাদ্রাসায় পড়ে, মাওলানা হতে চায়। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঠিকমতো সাহায্য পাই না। আমার এইতিম বাচ্চাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে যদি সরকার বা সমাজের কোনো হৃদয়বান মানুষ একটু সহযোগিতা করতেন, তবে আমার সন্তানগুলোর পড়াশোনাটা হয়তো আর বন্ধ হতো না।”
​মানবতার কাছে প্রশ্ন ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান
​একটি পরিবারের মাথার ওপর থেকে বটবৃক্ষের মতো অভিভাবক চলে যাওয়ার পর, সমাজের কি কোনো দায়িত্ব থাকে না? বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসির এই হতভাগ্য পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই।
​এলাকার বিত্তশালী শিল্পপতি, দানশীল ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর আকুল আবেদন—যদি কেউ এই শোকাহত পরিবারটির দায়িত্ব নেন, কিংবা তিন এতিম শিশুর পড়াশোনার নিয়মিত খরচের ব্যবস্থা করেন, তবে হয়তো রক্ষা পাবে তিনটি তাজা প্রাণের সুন্দর ভবিষ্যৎ।
​সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং দেশের বিত্তবান হৃদয়বান মানুষের সামান্য একটু সহানুভূতি ও মানবিক সাহায্যই পারে এই এতিম পরিবারটিকে নতুন জীবনের আলো দেখাতে এবং এই ছোট্ট শিশুগুলোর ‘মাওলানা’ হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page