রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ইমান, তাকদির ও একটি হজ ফ্লাইট

লিবিয়ার এক তরুণ হজযাত্রী আমের আল মাহদি মনসুর আল গাদ্দাফি, এ বছর হজ পালনের দৃঢ় মনোবাসনা নিয়ে রওনা হয়েছিলেন পবিত্র মক্কায় উদ্দেশে। এটি এমন এক অভূতপূর্ণ আত্মিক ইবাদত, যা বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমান অন্তত একবার পালন করতে চায়।

কিন্তু সমস্যা বাধে বিমানবন্দরে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে ইমিগ্রেশনেই আটকে দেওয়া হয়।

তাঁর অপরাধ, তাঁর পদবি ‘আল গাদ্দাফি’। কারণ লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের এক দশকের বেশি সময় পরও কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থায় এই পদবি কালো তালিকাভুক্ত হিসেবে রয়ে গেছে। যার ফলে তার দলের অন্য সদস্যরা বিমানে ওঠা শুরু করলেও, তিনি (আমের) ইমিগ্রেশন কাউন্টারেই আটকে ছিলেন। তিনি বারবার অনুরোধ করার পরও সিস্টেমের এই ত্রুটির কোনো সমাধান না পাওয়ায় বিমান ক্যাপ্টেন নিরাপত্তাঝুঁকি ও সময়সূচির অজুহাতে তাঁকে রেখেই উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

তবু আমের অনড় থাকেন। (আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে) তিনি বলেন, ‘আমি এখান থেকে সরব না, যতক্ষণ না হজের সফরে যেতে পারি।’

আকাশে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই সেই বিমানে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং বিমান ফিরে আসে। ক্ষণিক মেরামতের পর ফের যাত্রা শুরু করলেও আবারও বিমানে ত্রুটি দেখা দেয় এবং আবারও বিমানটি ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

যাত্রী ও ক্রুদের ভাষ্যমতে, দ্বিতীয়বার জরুরি অবতরণের পর ক্যাপ্টেন ঘোষণা দেন, ‘আমি কসম খাচ্ছি, আমের না থাকলে আমি আর এই বিমান ওড়াব না।’

এরপরই কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমেরকে ভ্রমণের ছাড়পত্র দেয়। তৃতীয়বারের চেষ্টায়, আমেরকে সঙ্গে নিয়েই অবশেষে বিমানটি সাফল্যের সঙ্গে যাত্রা সম্পন্ন করে।

এই ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই একে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও কবুল হওয়ার দোয়া বলে মনে করেন।

আমের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমি শুধু হজে যেতে চেয়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, যদি তা আমার জন্য লেখা থাকে, তবে কোনো শক্তিই আমাকে থামাতে পারবে না।’

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Like Our Page